ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসরের পর্দা নেমেছে গতকাল। বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত মাসব্যাপী এ মেলায় ২২৪ কোটি টাকার রফতানি আদেশ পাওয়া গেছে। মেলায় বিক্রি হয়েছে ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য। এ পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি।
গতকাল মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এ তথ্য জানিয়েছে। মেলা উপলক্ষে সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজন করে ইপিবি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, ‘দেশে বেশকিছু পণ্য উৎপাদিত হয় যারা মেলায় অংশগ্রহণ করে না। যারা বিক্রি নয়, প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে আসেন তাদের সাশ্রয়ী কিংবা বিনামূল্যে আমন্ত্রণ জানাতে পারি কিনা, তা আগামী বোর্ডসভায় উত্থাপন করা উচিত। তাদের পণ্যের বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবনের ওপর নির্ভর করে এ প্রদর্শনী জাতীয় সক্ষমতা নিরূপণ করার জন্য অসম্ভব জরুরি।’
তিনি আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিদেশী বিনিয়োগের জন্য একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা অপরিহার্য। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সেই লক্ষ্যেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই আজ দেশের জনগণের প্রধান প্রত্যাশা ও আমাদের পরম আকাঙ্ক্ষা।’
সমাপনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক আবদুর রহিম খান, ইপিবি ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলমগীর হুসাইন।
এবারের মেলায় মোট ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি বিদেশী প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, এবারের মেলায় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার (২২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা) রফতানি আদেশ পাওয়া গেছে। রফতানি আদেশ পাওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে বহুমুখী পাটপণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, কসমেটিক্স, হাইজিন পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হ্যান্ডলুম, তৈজসপত্র, হোম টেক্সটাইল, নকশি কাঁথা, ফ্যাব্রিকস ইত্যাদি।
এবারের মেলায় কারা অধিদপ্তর, জয়িতা ফাউন্ডেশন, বিসিক, তাঁত বোর্ড, জেডিপিসি, এপেক্স কনভেনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড এবং বাংলাদেশ টি-বোর্ডের বেশকিছু পণ্য নতুন এসেছে বলে জানায় ইপিবি। এছাড়া মেলায় অংশগ্রহণ ও পণ্যের মান বিবেচনায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।
রফতানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ এবং রফতানিকারকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সরকারি ট্রেড প্রমোশন সংস্থা, পণ্যভিত্তিক ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে মেলায় মোট আটটি সেমিনারও অনুষ্ঠিত হয়।
মাসব্যাপী চলা এ বাণিজ্য মেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল জানুয়ারি মাসের ১ তারিখ। তবে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার কারণে দুদিন পিছিয়ে যায় মেলার উদ্বোধন। এরপর গত ৩ জানুয়ারি এ মেলা উদ্বোধন করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।